কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণার কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিপফেক ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং, ভুয়া ওয়েবসাইট, ফিশিং লিংক, ভুয়া ক্যাপচা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংক, ই–মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে।
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারজনিত এসব ঝুঁকি থেকে সতর্ক থাকা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা চর্চা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আইটি উদ্যোক্তা নাজমুল হক সজীব।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকে সহজ করছে। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীরা নতুন ধরনের প্রতারণার কৌশলও ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠস্বর নকল করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
নাজমুল হক সজীব বলেন, ‘এআই এখন শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়; এর অপব্যবহারও একটি চ্যালেঞ্জ। পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর বা চেহারা দেখেই কোনো তথ্য বা নির্দেশনা বিশ্বাস না করে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। টাকা, ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ওয়ান-টাইম কোড চাওয়া হলে বিকল্প মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা উচিত।’
তার মতে, এআই ব্যবহার করে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, পরিচিত ব্যক্তি, সহকর্মী বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার কণ্ঠস্বর নকল করতে পারে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে টাকা পাঠানোর অনুরোধ বা সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা পেলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নাজমুল হক সজীব বলেন, অনেক ব্যবহারকারী এখনো পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, দুই স্তরের যাচাইকরণ এবং সন্দেহজনক লিংক বা অ্যাপের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে সচেতন নন।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে টু-ফ্যাক্টর বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা, নিয়মিত লগইন কার্যক্রম পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন ছাড়া কোনো অজানা অ্যাপকে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াও জরুরি।’
ব্যাংকিং, ই–মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতার কথাও বলেন নাজমুল হক সজীব। তার মতে, একটি ই–মেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ডিজিটাল সেবাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়। অপরিচিত লিংকে প্রবেশ, সন্দেহজনক সফটওয়্যার ইনস্টল বা কারও নির্দেশে অজানা কমান্ড চালানোর আগে বিষয়টি যাচাই করা উচিত।’
এআইনির্ভর প্রতারণা মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতার গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
নাজমুল হক সজীব বলেন, ‘এআইকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতাও তত বাড়াতে হবে। ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সঠিক ডিজিটাল নিরাপত্তা চর্চা সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।’
প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এআই ব্যবহার করে ডিপফেক, নকল কণ্ঠস্বর এবং ফিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে তা যাচাই করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অযাচিতভাবে কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এআইভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্বও বাড়ছে। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং যাচাই ছাড়া কোনো লিংক বা অনলাইন অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার মতো নিরাপদ অভ্যাস সাইবার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : শামস শামীম, কার্যালয়: লৌকিক এন্ড শৌভিক ভবন, পাসপোর্ট অফিস রোড, মল্লিকপুর, সুনামগঞ্জ। মোবাইল: +৮৮০১৯১২১৩৪৯১৭, ইমেইল: shamsshamim1@gmail.com
© All rights reserved © 2019-2026 haor24.net