ছাতক প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ট্রান্সফরমার বসানোকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে আনোয়ার হোসেন রনি নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী সুনামগঞ্জ সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করে তার বিচার চেয়েছে এবং দ্রুত ট্রান্সফরমার বসানোর দাবি জানিয়েছে।
সোমবার ২৭ জুলাই রাতে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর ও মাঞ্জিয়ারা গ্রামবাসী ওই ব্যক্তিকে গনপিটুনি দেন এবং চাদা দাবির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। গণপিটুনির শিকার ব্যক্তি দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর ও মাঞ্জিয়ারা গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর খুরমা ইউনিয়নের মাঞ্জিয়ারা গ্রামে পিডিবির একটি ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু করতে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় আনোয়ার হোসেন রনি নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কাজ শুরু করার অনুমতি দিতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যুতের জন্য অস্থির এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। পরে তারা রনিকে গণধোলাই দেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা গোবিন্দগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় জড়ো হয়। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে রনি উপস্থিত লোকজনকে গালিগালাজ ও হুমকি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে আলমপুর ও মাঞ্জিয়ারা গ্রামের কয়েকশ মানুষ সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের বুড়াইরগাঁও বাজারে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে রাত গভীর হওয়ার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এসময় জনতা আনোয়ার হোসেন রনিকে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
এদিকে এ ঘটনায় আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আব্দুল আউয়াল বলেন, এলাকায় চুন থেকে পান খসলেই রনি বেপরোয়া আচরণ করে। তার চাদাবাজিতে মানুষ অতীষ্ট। তীব্র গরমে মানুষ অস্থির। কিন্তু সে টাকা না দিলে ট্রান্সফরমার বসাতে দেবেনা। এটা শুনে এলাকাবাসী তাকে পিটিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা আবেদন করেছি।
এ ঘটনার বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রনির মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : শামস শামীম, কার্যালয়: লৌকিক এন্ড শৌভিক ভবন, পাসপোর্ট অফিস রোড, মল্লিকপুর, সুনামগঞ্জ। মোবাইল: +৮৮০১৯১২১৩৪৯১৭, ইমেইল: shamsshamim1@gmail.com
© All rights reserved © 2019-2026 haor24.net