স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের দুর্গম মধ্যনগর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে যাওয়ার পথে উপজেলার কাইতকান্দা সেতুর নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট ও রড ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে উপকরণগুলো পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। রবিবার দুপুরে সেতুর পাশ দিয়ে যাবার সময় স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে তিনি সেতু এলাকায় গিয়ে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পান। পরে উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে এসব উপকরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১০ মিটার এই সেতুটির কাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স মুশফিকুর রহিম কাঞ্চন। শুরু থেকেই তিনি উড়াল সড়ক প্রকল্পের এই কাজে অনিয়ম করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা ম-প পরিদর্শনে নেতাকর্মীদের নিয়ে যাচ্ছিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। রবিবার দুপুরে কাইতকান্দা সেতুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন করেন ঠিকাদার সেতুতে মনগড়া কাজ করছে। সেতুতে নি¤œমানের ইট, বালু, পাথর, রডসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে এই অভিযোগের পর সেতুর নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না হওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী পরিবর্তন না করা পর্যন্ত উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাওরের উড়াল সড়ক প্রকল্পের আওতায় মধ্যনগর উপজেলার কাইতকান্দা এলাকায় ৩১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে মুশফিকুর রহীম কাঞ্জন নামের একজন ঠিকাদার। কাজের শুরু থেকেই তিনি নি¤œমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলীও কাজে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে চিঠি দিয়ে এসব সামগ্রী সড়িয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, কাইতকান্দা সেতুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন জানান, নির্মাণকাজে প্রাক্কলিত উপকরণ ব্যবহার হচ্ছেনা। পরে সরেজমিনে গিয়ে দেখি, সবচেয়ে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের এবং কাজও যথাযতভাবে হচ্ছেনা। তাই এসব সামগ্রী পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছি।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী সাহাব উদ্দিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগেও চিঠি দিয়ে এসব উপকরণ পরিবর্তন করে যথাযতভাবে কাজ করার জন্য বলেছিল। আজ এমপি স্যার সরেজমিন এসে দেখে আবারও আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সামগ্রী পরিবর্তন না করলে কাজ বন্ধ থাকবে। ইস্টিমিটে ধরা উপকরণ দিয়েই কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।