বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ শহরের অভিযাত পরিবারের পারিবারিক মন্দির থেকে চুরি যাওয়া দেড়শ বছরের পুরনো তিনটি মূর্তি ও মূল্যবান পূজা সামগ্রী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই উদ্ধার করে মালিকের হাতে পৌছে দিয়েছে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। বৃহষ্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে চুরি যাওয়া মূর্তি ও সোনা. রোপা, কাসার সামগ্রী উদ্ধারের পর থানায় মালিককে ডেকে এনে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটকের কথা জানানো হলেও তার নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ জানান গত ১৪ অক্টোবর ভোররাতে পৌর শহরের বাধনপাড়া এলাকার গোবিন্দ চক্রবর্তীর পারিবারিক মন্দির চুরির ঘটনা ঘটে। চোররা প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো রাধা মাধব, রাধা মা ও গণেশ ঠাকুরের মূর্তিসহ শীলা, শালগ্রাম শিলা, চূড়া, বাঁশি পূজার নামা উপকরণ ছিল। চুরি হওয়া উপকরণগুলোর মধ্যে ২০ কেজি ওজনের ২ ফুট উচ্চতার মদনমোহন ও ১৫ কেজি ওজনের ১ ফুট উচ্চতার রাধা মূর্তি এবং ৭ ইঞ্চি উচ্চতার গণেশ মূর্তি রয়েছে। এছাড়াও একটি সোনার চেইন, একটি রূপার বাঁশি, তিনটি সোনার চূড়া, পুরোনো কাঁসার বাসন, পূজা সামগ্রীসহ এবং বাসারসংলগ্ন স্টেশনারি দোকানের নগদ টাকাও রয়েছে।
ঘটনার পরই বাসার মালিক গোবিন্দ চক্রবর্তী পুলিশকে অবগত করেন। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ ও পুলিশ ফাঁড়ির এসআই অভিজিৎ ভৌমিক অভিযানে নামেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর সংগ্রহ করে ১৫ অক্টোবর রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নোয়াবাদ গ্রাম থেকে মূর্তি ও পূজা সামগ্রীগুলো উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে রাতেই গোবিন্দ চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মন্দিরের মালিক ব্যবসায়ী রাজগোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, বুধবার ভোররাতে ঘুম থেকে ওঠে দেখি মন্দিরের তালা ভাঙ্গা দেখেই পুলিশকে খবর দেই। বৃহষ্পতিবার রাতে পুলিশ কিশোরগঞ্জ থেকে তা উদ্ধার করে দিয়েছে। আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। পুলিশ ইচ্ছে করলে যে অপরাধীদের খুজে বের করা সম্ভব আবারও প্রমাণিত হলো। পূজা শুরুর আগে মূর্তি ও উপকরণগুলো পেয়ে আমরা খুবই খুশি।
সুনামগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, পৌর শহরের হাসনগর এলাকার এক সন্দেহভাজন চোরকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। এর মধ্যে বৃহষ্পতিবার রাতেই কিশোরগঞ্জ থেকে চুরি যাওয়া বিগ্রহসহ সামগ্রীগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মালিকের কাছে তা তুলে দেওয়া হয়েছে।